ডেস্ক রিপোর্ট ॥ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার প্রস্তাবও আসতে পারে। এ বিষয়ে জোটের শরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই নির্বাচনে এগিয়ে থাকবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এমন বাস্তবতার মধ্যেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং জোটের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির দেখা যায়। ওই সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবার জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
