ডেস্ক রিপোর্ট ॥ গুম, দীর্ঘ বন্দিত্ব ও ভারতে নির্বাসিত জীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি ২০১৫ সালের গুম থেকে ২০২৪ সালে দেশে ফেরার দীর্ঘ পথের বর্ণনা দেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর আট বাই চার ফুটের একটি অন্ধকার কক্ষে ৬১ দিন বন্দি রাখা হয়। কক্ষে পানির কল ও নর্দমার সঙ্গে যুক্ত একটি সরু ছিদ্র ছিল। মেঝেতে কম্বল ও বালিশে থাকতে হতো। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও চিকিৎসা পাননি তিনি।
পরবর্তীতে চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে করে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে বেসামরিক হাসপাতালে এবং পরে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রেখে ওষুধ খাওয়ানো এবং চশমা কেড়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তিনি। নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানান।
একপর্যায়ে স্ত্রীর ফোন পেয়ে পরিবারের কাছে জীবিত থাকার খবর পৌঁছেছে নিশ্চিত হন তিনি। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় দিয়ে ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন’ বলে চিৎকার করেন।
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন। ভারতে থাকাকালেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নয় বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব ছিলেন, পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন।
