নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরাসরি ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি বলে জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। অন্যদিকে অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান কার্যকর ছিল। এ বিধান অনুযায়ী দলীয় সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারা দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনি কর্তা এএমএম নাসির উদ্দিন। তার তত্ত্বাবধানেই সংসদে ভোটগ্রহণ ও পরে ভোট গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ভোট দেন। এরপর রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট প্রদান করেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ তৈরি হলো। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
