ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরির খবর
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জাতীয়
  12. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির নতুন মহাসচিবের দৌড়ে এগিয়ে রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদন
আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে দলের নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগেই দলের বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব পদে আর থাকতে চান না—এমন ইঙ্গিত তিনি গণমাধ্যমে দিয়েছেন। ফলে তার উত্তরসূরি নিয়ে বিএনপির ভেতরে একাধিক নাম সামনে এসেছে।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্বাভাবিকভাবেই তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব ছাড়তে হবে। তখন দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হবে বিএনপিকে।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ছয়বার কারাবরণ করেন। প্রায় দেড় দশক দায়িত্ব পালনকালে তাকে সরিয়ে নতুন মহাসচিব করার গুঞ্জন বহুবার উঠলেও তার সজ্জন ভাবমূর্তি ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিকল্প খুঁজে পাওয়া দলের জন্য কঠিন ছিল।

বিএনপির অতীত চর্চায় দেখা যায়, প্রথম যুগ্ম মহাসচিবদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার পর পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হয়েছে। এ কারণে ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। পরে জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

রিজভীর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসেবে সামনে আসছে তার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ। বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, দেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে তার বিস্তৃত ধারণা রয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর থেকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশনাতেও তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে নতুন মহাসচিবের আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদের নামও রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থান করেন। সেখান থেকেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সালাহউদ্দিন বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে সংসদে সক্রিয়। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তার কৌশলী বক্তব্যও আলোচিত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ কম থাকাকে মহাসচিব হওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বাধা মনে করছেন অনেকে।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় রয়েছে।

দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা মনে করেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে—এমন পরীক্ষিত নেতাকে মহাসচিব করা প্রয়োজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের চেয়ারম্যান যেহেতু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী, তাই মহাসচিবই দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা সংগঠনের জন্য বুমেরাং হতে পারে।

কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশসহ তৃণমূল নেতারা দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা, অভিজ্ঞ ও কর্মীবান্ধব নেতাকে মহাসচিব হিসেবে চান। যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও ত্যাগী, বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ নেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর মতে, তারেক রহমানের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেন এবং দল ও দেশের জন্য কার্যকর—এমন নেতাকেই মহাসচিব করা হবে। তুলনামূলক তরুণ নেতারও সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্য নতুন মহাসচিবের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে সরকার ও দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় রুহুল কবির রিজভী এ ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।