আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব পাকিস্তানের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নিয়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে শুক্রবার আলজাজিরাকে নিশ্চিত করেন এক ইরানি কূটনীতিক।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইরান তখন যুদ্ধ শেষে পারমাণবিক আলোচনা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করার অবস্থানে ছিল। নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ২১ দিনের আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। আলোচনার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে।
হামলার প্রথম ধাক্কায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরবর্তী হামলায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়। হিজবুল্লাহ ও হুতি বাহিনীর সমর্থনে ইরানের সামরিক শক্তি আরও বাড়ে।
টানা ৩৮ দিনের যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যদিও ২৩ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়েছে, এখনো পূর্ণ সমঝোতা হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতি বড় চাপের মুখে রয়েছে।
