ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর ভয়াল ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই ভাঙনে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও পূর্বপুরুষের কবর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীপারের মানুষের দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়, এখন প্রয়োজন কার্যকর নদীশাসন।
সরই গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, নদীগর্ভে তাঁর স্বামীর কবর পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে ছোট একটি ঘরে বসবাস করছেন। মৃত্যুর পর প্রিয়জনকে কোথায় দাফন করা হবে, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বারইকরন, সরই, তিমিরকাঠি, দরিরচর, খোজাখালী, মল্লিকপুর, সিকদারপাড়া, বহরমপুর, ষাটপাকিয়া, কাঠিপাড়া ও অনুরাগ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বারইকরন, সরই, খোজাখালী, দরিরচর, তিমিরকাঠি ও সিকদারপাড়া।
রশিদ মোল্লা বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। প্রতিবছর মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। হেপী বেগম জানান, তাঁর ঘর এখন নদীর কিনারায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইউসুফ হাওলাদার বলেন, আগে তাঁদের এলাকায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার ছিল, এখন মাত্র দুই-তিনটি পরিবার বসবাস করছে। জামাল ফকিরের বাপ-দাদার ভিটাও নদীর মাঝখানে বিলীন হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার হাজী আব্দুল হক তালুকদার বলেন, নদী ধীরে ধীরে তাঁর বাড়ির দিকেও এগিয়ে আসছে। ইউপি সদস্য বেল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, নদীর গতিপ্রকৃতি, পানির প্রবাহ ও ভাঙনের ধরন বিবেচনায় স্থায়ী নদীশাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে ধাপে ধাপে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
