ডেস্ক রিপোর্ট ॥ গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন দলটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেয়।
আইনগতভাবে দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ হারানো এক বিষয় নয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি একইভাবে সরাসরি উল্লেখ নেই।
এ ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠানোর বিধান রয়েছে। ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন, ১৯৮০’-এর আওতায় স্পিকার প্রয়োজনীয় বিবরণ প্রস্তুত করে কমিশনে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার সুযোগ দিয়ে কমিশন শুনানি করতে পারে এবং এরপর সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া রয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসেও এমন নজির রয়েছে। ২০০০ সালে বিএনপির সংসদ বয়কটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে যোগ দেওয়ায় তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দল থেকে বহিষ্কারের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে যায় এবং ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।
২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সদস্যপদ নিয়েও নির্বাচন কমিশনে শুনানি হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই তিনি নিজে পদত্যাগ করেন এবং পরে তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।
