ডেস্ক রিপোর্ট ॥ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে ছিলেন না, তারা স্বৈরাচার পতনের পর নিজেদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে একসঙ্গেই পথ চলতে চান। কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তা যেন রাজনৈতিক বিভাজনের কারণ না হয়। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, তারা ৫ আগস্টের পর ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করে তিনি মন্তব্য করেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এসব শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে প্রণীত সংস্কার রূপরেখা। জনগণ এ কর্মসূচির পক্ষেই রায় দিয়েছে এবং এখন এর বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত সংকটপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার কাজ করছে এবং কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী যমুনায় পৌঁছে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া মোস্তফা জামাল হায়দার, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
