আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করেছে। আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তু একযোগে আঘাতের শিকার হয়েছে বলে দাবি করে ইরান।
আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিসহ একাধিক স্থাপনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়। সংস্থাটি এক বিশেষ বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে আইআরজিসি জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাবে আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এদিকে, ইরানের এই ব্যাপক সামরিক অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক জরুরি বার্তায় জানায়, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি বিভ্রান্তি এড়াতে শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। সূত্র: আল জাজিরা।
