আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং দায়ীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
মেহের নিউজের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জন্য দায়ী ‘জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেশের জাতীয় স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ১৭ জুন উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনার পথ সুগম করা। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও বাস্তবে বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির দাবি, রাজধানী তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত সেতু ও রেল যোগাযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আড়াল করা যায়। বৃহস্পতিবার মাশহাদে তাকে দাফন করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
