স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাত ৩টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। দুই দলের লক্ষ্য একটাই— জয় তুলে নিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করা। একদিকে আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ে, অন্যদিকে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেনকে নিয়ে তারকাখচিত ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দুই দলই। শেষ ষোলোতে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছে নরওয়ে। অন্যদিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। দুই দলের আত্মবিশ্বাসই এখন তুঙ্গে।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আর্লিং হালান্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে রয়েছেন হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, জুড বেলিংহাম ও ফিল ফোডেনের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার। ফলে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে ম্যাচটি জমে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল।
ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন। তাদের মতে, দলটির স্কোয়াডের গভীরতা, বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত পরিপক্বতা নরওয়ের তুলনায় বেশি। বিভিন্ন ফুটবল পূর্বাভাস মডেল ও সুপারকম্পিউটারও ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ দেখাচ্ছে। নরওয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। তবে হালান্ডের উপস্থিতি নরওয়েকে সবসময়ই বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবে রাখছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলেই খেলতে পারে নরওয়ে। হালান্ডকে যদি পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়া হয়, তাহলে ইংল্যান্ডের রক্ষণ বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে। আবার ইংল্যান্ড শুরুতেই গোল পেয়ে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের দখলে চলে যেতে পারে। অনেকের মতে, এই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়েও গড়াতে পারে। এই ম্যাচের বিজয়ী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
