আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও তিনি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ইরান জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথে চলাচলের অভিযোগে একটি জাহাজের উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ইরানের ভাষ্য, কয়েকটি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে অননুমোদিত পথে চলাচলের চেষ্টা করে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, মার্কিন হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, আইআরজিসির ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে অভিযান শুরু হয়। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এ সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংকট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
