আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। দেশজুড়ে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করার ফল বলে জানানো হয়েছে।
একই সময়ে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে। জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনও বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত চালু করে সবাইকে শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ সংকট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ইরানের দাবি, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহারকারী কয়েকটি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি। আইআরজিসি বলেছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আইআরজিসির ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
