আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় না এলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহ ইরানের জন্য খুবই কঠিন হবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, আলোচনায় না এলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোও ভেঙে ফেলা হবে।
হামলার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত ১৭ জুনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৌশলগত লড়াই চলছে। বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইতোমধ্যে টানা চার দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বিমান হামলা পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির প্রধান বন্দরগুলোতে নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
