আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি; বরং ইসরায়েলি হামলা আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। একই সময় আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০–এর বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বয়স্কসহ অসংখ্য নিরপরাধ বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে।
খান ইউনিসের পূর্বে বনি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হয়। চিকিৎসকরা বলেন, সকালে আল-ফারাবি স্কুলের কাছে বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করলে জুমা ও ফাদি নামের দুই ভাই মারা যায়। এ ছাড়া আল-কারারা, তুফাহ এবং রাফাসহ গাজার বিভিন্ন স্থানে শনিবারও ইসরায়েলি বাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার আগের দিনও বনি সুহেইলায় ইয়েলো লাইনের বাইরে ড্রোন হামলায় আরেক ব্যক্তি নিহত হন। ক্রমাগত হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৫৩৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, “গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীনভাবে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় পরিষেবা, পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা—সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।”
মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, বিরতির মধ্যেও অনবরত হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করে বলছে, গাজায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মানবিক সংকটে রূপ নিতে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
