আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে; তবে ভারতীয় ভোক্তারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। সীমান্তে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা ‘পানির দরে’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মালদহের মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্তে ৫০ কেজির বস্তা ১০০ রুপিতে বিক্রি হলেও মালদহ শহরের বাজারে এখনো প্রতিকেজি ২০–২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, সরকার ও প্রশাসনের অবহেলায় রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ ভোক্তারা স্বাভাবিক বাজারদর পাচ্ছেন না।
রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। দুই মাস আগে বাংলাদেশে স্বাভাবিক রপ্তানি বিবেচনায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ সীমান্তে মজুত করেছিলেন তারা। নাসিক থেকে ১৬ রুপিতে কিনে পরিবহনসহ প্রতিকেজি ২২ রুপি খরচ পড়ে। রপ্তানির মাধ্যমে কেজিতে ৮–১০ রুপি লাভের সুযোগ থাকলেও এখন তা উল্টো লোকসানে পরিণত হয়েছে। বড় অংশের পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে প্রতিদিন আলাদা করতে হচ্ছে।
মালদহের ক্রেতা খায়রুল হক বলেন, “ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত আর বাজারে এখনও ৩০ রুপি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে—এটা সরকার ও প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া কিছু নয়।”
এদিকে কলকাতা ও আশপাশের শহরেও এখনও মানসম্মত পেঁয়াজ ২৫–৩০ রুপি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, গুদামের স্টক বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে রপ্তানিকারকদের ক্ষতি কমাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত।
