আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরান কার্যত নৌপথটি বন্ধ করে দেয়, ফলে বিশ্ব বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন অভিযানে বাধা দিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে সমুদ্রে পাতা মাইন অপসারণ করা হয় এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ে মার্কিন পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করানো হয়। প্রায় ১৫ হাজার সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সাব-সারফেস সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হলেও ইরান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেনি এবং ইরানি নৌযান ধ্বংসের খবরও অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা বিশ্ব তেল ও এলএনজি বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হুমকির কারণে ৮৭ দেশের জাহাজ উপসাগরে আটকে রয়েছে। অবরোধ ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
