আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতার আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি বা সমঝোতা হতে পারে।
বুধবার (৬ মে) সম্প্রচারিত ওই লাইভ অনুষ্ঠানে বায়ার বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ট্রাম্প বেশ আশাবাদী। যদিও তিনি বিষয়টিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক এবং ইরানও আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার নিশ্চয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতিবাচক আলোচনা করছি। তারা চুক্তি করতে চায়। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা সময়ই বলে দেবে।”
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।
এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
এদিকে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তবে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
