আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় চলমান শান্তি আলোচনা নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য মাইন স্থাপনের কার্যক্রম ঠেকাতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত বন্দর আব্বাসের কাছে হামলাটি পরিচালিত হয়। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করলেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর আগে বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা কাতারের দোহায় চলমান কূটনৈতিক আলোচনার গতিকে মন্থর করতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ধাপের সংলাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আলোচনায় বেশ কিছু জটিল বিষয় এখনও সমাধান হয়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই নিরাপত্তাজনিত কারণে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগে বিলম্ব হচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ইউরেনিয়াম হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, নয়তো ইরানের মাটিতেই ধ্বংস করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই হামলা শুধু যুদ্ধবিরতিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমঝোতার পথও আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
