আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ইরানের তুনব দ্বীপে টানা ৯০ মিনিটের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা। এ অভিযানে ইরানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ইরানি সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সর্বশেষ দফার হামলার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের ওপর ইরানের সামরিক চাপ কমানো সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এ হামলার জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত দুটি জাহাজকে সেখানে থামানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। এই ঘোষণার পর সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
