ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে এর প্রভাব এখনো গভীর। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বন্যাকবলিত এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বীজতলা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি সবজির ক্ষেতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মোট পাঁচ লাখের বেশি কৃষক এ দুর্যোগে ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বন্যার পানিতে মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে যাওয়ায় মৎস্য খাতে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে পশু খামারিরাও খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি জমিতে নতুন বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আগাম সতর্কবার্তা জোরদার করা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
