ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ, আর চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। তবে এবার ভোটের দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইসি।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) তফসিল, গণভোট ও ভোটের আগে-পরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান—এবার বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভোটের দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “ভোট পরিচালনায় দায়িত্ব দেওয়া হবে শুধুমাত্র সরকারি ও আধা-সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবারের দায়িত্বের আওতায় থাকছেন না।”
এর আগে গত অক্টোবরে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এড়িয়ে চলা উচিত।
একই ইস্যুতে ২৬ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, বিএনপির আহ্বান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকে।
ইসি সূত্র জানায়, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ বাছাইয়ে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের নিয়োগে পূর্বের অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানিক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিকসহ সব কার্যক্রম শুরু করবে কমিশন। নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় ইসি।
