ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে স্থবির অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব। এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতার ওপরই ভোটারদের কাছে নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ছিল। নতুন সরকার প্রাথমিকভাবে জনসমর্থনের সুবিধা পেলেও দ্রুত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে সেই সমর্থন কমে যেতে পারে। আর্থিক খাত সংস্কার, মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৫.৮ শতাংশ। চলতি ও পরবর্তী অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নতুন অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা অর্থনীতি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার এবং বিনিময় হার নমনীয় করার উদ্যোগ ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
এদিকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বাণিজ্য সুবিধা কমে গেলে রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কমে গেলে ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নেবে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ এখনও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি—এই চার ক্ষেত্রেই সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর ভবিষ্যৎ রাজনীতি নির্ভর করবে।
