ডেস্ক রিপোর্ট ॥ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ইরানি ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা দিলেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরানের পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত Reuters প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১ দশমিক ১২ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ২৯ ডলার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন নির্ধারিত বিশেষ নৌপথ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। UBS-এর বিশেষজ্ঞ জিওভানি স্টাউনোভো মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতই তেলের বাজারে বড় পতনের মূল কারণ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হলেও ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের আলোচনায় অধিকাংশ শর্ত ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি সচল থাকলেও কূটনৈতিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
