ডেস্ক রিপোর্ট ॥ টানা দুই দিনের ব্যবধানে ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারে সংঘটিত ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অনুভূত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলেও মৃদু কম্পনের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে সংঘটিত ভূমিকম্পটির তথ্য প্রকাশ করে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং অবস্থান ছিল ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের উৎসস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী কম্পন বাংলাদেশেও অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই কম্পন অনুভবের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
এর আগের দিন শনিবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে দেশের উত্তরাঞ্চলেও মৃদু ভূমিকম্প হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ উল্লেখ করেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ও ইউএসজিএসের তথ্যে সামান্য পার্থক্য দেখা গেলেও উভয়েই কম্পন নিশ্চিত করেছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানায়, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া অঞ্চল। কম গভীরতার কারণে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় কম্পনের পূর্বাভাসও হতে পারে। তাই ভবন নিরাপত্তা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
