আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং বিমান এবং সামরিক জনবল পাঠিয়ে প্রস্তুতি জোরদার করছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ সতর্কতা কঠোর করা, সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনা এবং নতুন অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
টানা আট দিন ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রতিটি হামলার আগে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি নতুন করে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। রোববার সকালে কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার ঘটনাও উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে টানা অষ্টম রাতেও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত সেনারা মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান অত্যন্ত দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে এবং লক্ষ্য নির্ধারণে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে। এ কারণে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কঠোর অবস্থানের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে।
পেন্টাগনও সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ অভিযানে ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। শুরুতে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থানের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৬ এবং ব্রিটেন থেকে স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করেছে। এসব যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংসসহ বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
