আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের জন্য সরাসরি বৈঠককে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ট্রাম্প প্রশাসন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, বিশ্বে জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ জরুরি। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, খামেনি সাক্ষাৎ করতে চাইলে ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন। মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
রুবিও আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। কারণ ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা পৌঁছালে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। তবে অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় কূটনৈতিক উপায়ে মীমাংসার আগ্রহ রয়েছে ওয়াশিংটনের।
দুই দেশের উত্তেজনার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই তা বৃদ্ধি পায় এবং দ্বিতীয় মেয়াদে আরও তীব্র হয়। ২০২৫ সালে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। এরপর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।
গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে এবং ট্রাম্প সামরিক হুমকি দেন। পরে জানুয়ারিতে পরিস্থিতি শান্ত হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। ওমানের মাস্কাটে সংলাপ চলার মধ্যেও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রুবিও বলেন, অতীতে আমেরিকার স্বার্থে আঘাতের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র: ব্লুমবার্গ/এএফপি
