ডেস্ক রিপোর্ট ॥ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংসদীয় দলের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ভূমিধস জয় পাওয়া বিএনপি তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছে, ফলে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিচালনায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যরা এবং পরে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নেন। শপথ শেষে নিয়ম অনুযায়ী সদস্যরা স্বাক্ষর করেন শপথপত্রে।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকে দলের নীতিনির্ধারকরা নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা, সংবিধান সংস্কার এবং সংসদ পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দলীয় নেতারা জানান, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় থাকবে।
বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংসদ ভবন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় আনন্দ মিছিল ও উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন সরকার।
