ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি ও দেনা সত্ত্বেও আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দাম বৃদ্ধি না করে খাতের আর্থিক চাপ কমাতে বিকল্প কৌশল নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গত শনিবার বিদ্যুৎ বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ বিতরণ ও সঞ্চালন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক অবস্থা, উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকির চাপ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়।
বিপিডিবি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও নতুন দেনা যোগ হয়েছে এবং এ বছর লোকসান মোকাবিলায় প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়া এবং বিক্রয়মূল্য কম থাকার কারণে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি আমদানির বিপরীতে বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হয়েছে।
সভায় কিছু কর্মকর্তা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তা নাকচ করেন। তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান হলো—দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমানো, অপারেশনাল ব্যয় সংকোচন, ট্যারিফ নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে উৎপাদন পর্যায়ে নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ এবং উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিক করার মাধ্যমেই লোকসান কমাতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং গ্রাহকরাও স্বস্তি পাবেন।
