ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশের নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে নারী প্রধান পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় এনেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে নারী ও শিশুরা টেকসই উন্নয়নের সমান অংশীদার হবে। নারী ও শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র নারীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভকালীন পুষ্টি সহায়তা ও মা-শিশু উন্নয়ন কর্মসূচি শিশুদের স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এবং নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে জয়িতা ফাউন্ডেশন কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের অব্যবহৃত অংশ এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের ফাঁকা জায়গাগুলো সবুজায়নের আওতায় আনা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নগর পরিবেশ উন্নয়ন—এই দুই উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
