ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশজুড়ে চলমান ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং আরও বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে বন্যা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাও সম্ভাব্য বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, টানা ভারী বর্ষণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৯৬ ঘণ্টায় আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দেয়। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বুধবারও অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলা জেলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনী জেলায় ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি ও ছোট নদীগুলোতে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃষ্টিপাত থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় চলতে পারে এবং পরিস্থিতি আগামী ৪ মে পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমলে পানি নেমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
