ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে হামের প্রাদুর্ভাব, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্যখাত ব্যাপক চাপে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা ক্রয় করা হলেও পরবর্তীতে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তে ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। এতে অর্ধেক টিকা ইউনিসেফ এবং বাকি অর্ধেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে। ফলে সময়মতো টিকা সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং এক পর্যায়ে মজুত প্রায় শেষ হয়ে যায়।
২০২৫ সালের মধ্যে টিকা সংগ্রহের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় মাঠপর্যায়ে সরবরাহ দেরি হয়। এর ফলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, টিকা কেনার পূর্ববর্তী সহজ প্রক্রিয়া পরিবর্তন করায় একাধিক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে, যা সময়ক্ষেপণ বাড়ায়। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতার অভাবে আরও বিলম্ব ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের পর থেকে দেশে কোনো বড় ধরনের সম্পূরক টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। বিশেষ করে এমআর-১ ও এমআর-২ টিকার কভারেজ কমে যাওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির হার কমে যাওয়া এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত টিকাদান না থাকায় দেশে ‘অপর্যাপ্ত হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়েছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, নতুন ব্যবস্থায় টিকাদানকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যেই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিকেন্দ্রীকৃত টিকাদান ব্যবস্থা এবং জরুরি ক্যাম্পেইন পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি।
