ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ক্রুড অয়েল সংকটে প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার (৮ মে) ভোর থেকে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) উৎপাদন শুরু হওয়ায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
শোধনাগার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভোর ৫টায় প্রসেসিং শুরু হওয়ার পর সকাল ৬টা থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে ট্যাঙ্ক ফার্মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
গত ১৪ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ক্রুড অয়েল না থাকায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ মেট্রিক টন তেল নিয়ে ‘এমটি নাইমনিয়া’ নামের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আসা তেল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন সচল রাখা সম্ভব। তবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান আনা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ফুজাইরা বন্দর পারস্য উপসাগরের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব কম পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাহাজটি ১০ মে রওনা দিয়ে ২৫ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বর্তমানে ইআরএল-এর মোট ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাসে অন্তত ৪ লাখ টন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
