ঢাকাসোমবার , ১১ মে ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরির খবর
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জাতীয়
  12. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ই-নামজারি ও ডিজিটাল ডাটাবেজে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ

নিজস্ব প্রতিবেদন
মে ১১, ২০২৬ ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের ভূমি প্রশাসনে ডিজিটালাইজেশন একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে, যেখানে অনলাইন নামজারি (ই-মিউটেশন), ই-খাজনা এবং ডিজিটাল ভূমি ডাটাবেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে জমির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় ও দ্রুততর হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) নাসরিন জাহান বলেন, অনলাইন নামজারি ব্যবস্থা চালুর ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন আবেদনকারী নিজেই অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে পারেন এবং মোবাইল ফোনে প্রতিটি ধাপের আপডেট পেতে পারেন। পাশাপাশি এসএমএস নোটিফিকেশন সিস্টেম চালু থাকায় স্বচ্ছতা আরও বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধেও এসেছে বড় পরিবর্তন। মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা যাচ্ছে। ফলে ভূমি অফিসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই-খাজনা চালুর পর প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক অনলাইনে কর পরিশোধ করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা বিদেশে বসেই নিজেদের জমির খাজনা পরিশোধ করছেন।

অন্যদিকে ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা কমাতে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে জমির দাগ নম্বর, মালিকানা এবং পরিমাণ যাচাই করা সহজ হয়েছে, যা প্রতারণার ঝুঁকি কমিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ গঠনের কাজ করছে, যেখানে দেশের সব ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমি ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল কাগজপত্র শনাক্ত এবং ভূমি বিরোধ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সব সংস্থা একীভূত হলে জমি কেনাবেচার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকানা হালনাগাদ সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিজিটাল রূপান্তর সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূমি সংক্রান্ত মামলা, বিরোধ এবং দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যা দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সূত্র: বাসস

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।