আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে আস্থা ভোটকে ঘিরে। বুধবার (১৩ মে) তামিলনাড়ু বিধানসভা-এ অনুষ্ঠিত ভোটে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) ১৪৪টি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তার বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ২২টি এবং পাঁচজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
বিজয়ের পক্ষে সমর্থন দেয় আইইউএমএল, কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) ও এআইএডিএমকের বিদ্রোহী অংশ। অন্যদিকে এম কে স্ট্যালিন-এর নেতৃত্বাধীন দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (ডিএমকে)-র ৫৯ বিধায়ক ভোটাভুটির আগেই সভা থেকে ওয়াকআউট করেন।
আস্থা ভোটের আগে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম-এর ভেতরে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়। দলপ্রধান এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামী-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এস পি ভেলুমানি ও সি ভি শানমুগামের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দেন। পালানিস্বামী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অপসারণ করেন এবং ২৪ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানান।
পদ হারানোর পর শানমুগাম বলেন, পালানিস্বামী বিরোধী মত দমনে বহিষ্কার নীতি অনুসরণ করছেন।
আস্থা ভোটের পর এক্সে দেওয়া বার্তায় বিজয় ডিএমকেকে ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার দল এককভাবে ৩৪.৯২ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং ডিএমকের তুলনায় প্রায় ৫৩ লাখ বেশি ভোট অর্জন করেছে।
ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান দাবি করেন, বিজয়কে ঠেকাতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ৭০০টির বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন বিজয়। তবে নিজের জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে ওএসডি নিয়োগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা হয়।
অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস জানিয়েছে, কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফ জোটের বড় জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঘোষণা করা হবে। দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-এর বাসভবনে রাহুল গান্ধী-র সঙ্গে বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, আলোচনার সব ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা অপেক্ষমাণ।
সূত্র: দ্য হিন্দু অবলম্বনে
