ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত আচরণবিধি অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবেন না। ফলে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনি সমীকরণে বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীকে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে যেখানে উল্লেখ থাকবে যে তিনি কোনো নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ভুল তথ্য প্রদান করলে কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির পদধারী নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের বাইরে থাকবেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। হাট-বাজার, অলিগলি এবং জনসমাগমস্থলে তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় নির্বাচনেও প্রতিফলিত হবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য তারুণ্যনির্ভর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্যও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক অঙ্গন থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাই করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ উপজেলার প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের গ্রামাঞ্চলে নতুন নির্বাচনি আবহ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মেয়র ও সদস্য প্রার্থীরা সামাজিক, ধর্মীয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। ভোটাররাও স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রার্থীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সব মিলিয়ে অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
