ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের সাংবিধানিক বিধান পুনরায় কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে আইনজীবীরা মত প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে গত ৩ নভেম্বর রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর সম্পূর্ণ বাতিল চাওয়া হলেও হাইকোর্টের মতো আপিল বিভাগও পুরো সংশোধনী বাতিল করেননি।
হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ, সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি গণভোট বিলুপ্তির বিধানসংবলিত ৪৭ ধারাও অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পূর্ববর্তী বিধান পুনর্বহাল হয়।
রায়ে আদালত বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে জনগণের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিল করা হচ্ছে না। অবশিষ্ট বিধান, যেমন শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি, ২৬ মার্চের ভাষণসহ অন্যান্য বিষয় ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৯ আগস্ট, যখন হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণফোরাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবসহ একাধিক পক্ষ মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং আরও কয়েকটি সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
