আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সাফল্য অর্জনের চেয়ে সেই সাফল্যকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে রূপ দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই পরিকল্পনার অভাবই বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ সীমিত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কুয়েত থেকে ইরাকি বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের পর যুদ্ধ শেষ হয়। কিন্তু পরে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে দ্বিতীয় যুদ্ধ শুরু করে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেননি। ফলে দীর্ঘ সংঘাতের শেষে ওই অঞ্চলে উল্টো ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। একইভাবে আফগানিস্তানে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত তালেবান আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ইসরায়েলের প্ররোচনায় ট্রাম্প এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়; লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমেও সংঘাত বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, ট্রাম্প চাইলে এখনো যুদ্ধকে রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরে সরে আসতে পারেন, কিন্তু তিনি বরং আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক পরিচালক সুজান মালোনি বলেন, যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভুল মূল্যায়ন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাধামুক্ত নৌচলাচলের যুগ সম্ভবত শেষ হয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হতে পারে।
আলী ভায়েজের মতে, দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকও ধরে রাখতে পারেনি। তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ নয়, বরং এটি সত্যিকার অর্থেই একটি দীর্ঘস্থায়ী বা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে।
