আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এই শুনানি শুরু হবে, যা আগামী তিন সপ্তাহ চলবে।
এই মামলাটি দায়ের করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া, ২০১৯ সালে। মামলার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন, যেখানে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার সরকার এই হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে। এর জেরে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ঘরবাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ উঠে। প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের অধিকাংশ এখনও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।
সে সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং গাম্বিয়ার মামলাকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সুচি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: রয়টার্স
