আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরান প্রসঙ্গে আগ্রাসী ভূমিকায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ হিসেবে পরিচিত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এই ইস্যুতে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হবে না, তাদের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এনডিটিভি এই বক্তব্যের খবর প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথেও যেতে পারে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, “রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, ডেনমার্ক তাদের ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।” ভেনেজুয়েলার ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি নিজের অবস্থান আরও জোরালো করেন।
এই হুমকির জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ডেনমার্কের অনুরোধে জার্মানিসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের সেনা সদস্য গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তবে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, তার দেশ এই সেনা মোতায়েনে অংশ নেবে না, যা ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি হবে। ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। আগামী মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
