আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন সরাসরি যুদ্ধের শঙ্কায় রূপ নিয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরান তার আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিকে কেন্দ্র করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসে উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীদের আংশিক প্রত্যাহার শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হলে সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই হুমকির জেরে সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, তারা তাদের আকাশপথ ইরানবিরোধী কোনো অভিযানে ব্যবহার করতে দেবে না।
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি সরকার পতনের দাবিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্দোলন দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইরানের প্রধান বিচারপতি নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ইরান আপাতত বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রয়েছে। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
যুদ্ধাবস্থা ঘনীভূত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের লাগাতার সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।
এই সংকট বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে পদযাত্রা করেছেন। অপরদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে সরকার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
