ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ই-হেলথ কার্ড’ নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা তথ্য একক ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
প্রথম ধাপে পাঁচটি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে আগামী জুলাই থেকে। পরে ধাপে ধাপে পুরো দেশে এটি সম্প্রসারিত করা হবে। কার্ডের মাধ্যমে রোগীরা সরকারি হাসপাতালে ছাড় এবং বছরে একবার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা পাবেন।
এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবেও আলোচনায় এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাস্থ্য কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো দেশে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সেবা চালুর ক্ষেত্রে নানা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কোনো একক মডেলের সাথে না গিয়ে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগোতে হবে এবং প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, রোগীর তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হলে চিকিৎসা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা এবং সচেতনতা বাড়ানো না হলে এই প্রকল্পের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো কঠিন হবে।
সব মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
