আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত শান্তিচুক্তির সম্ভাব্য শর্তগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত দলিল প্রকাশ করা হয়নি, তবু বিভিন্ন সূত্রে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমনের আশা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়ানো হবে।
খসড়া চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ধারা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেবে।
বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। একইসঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্প্রসারণ বা নতুন পারমাণবিক স্থাপনা বৃদ্ধির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “আজ সকালে বৈরুতে এ হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি, বিশেষ করে যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি।”
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পিত চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন আহ্বান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি সই হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: সিএনএন
