আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর একটি দ্বিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির খসড়া প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে –এ স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই সমঝোতায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, নৌপথ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিলকরণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।
খসড়ায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা সেই পথে অগ্রসর হবে না। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং নতুন কোনো পরমাণু স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই সময়ের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ না করার অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করে ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। খসড়া অনুযায়ী ইরান এই প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
অর্থনৈতিক অংশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় চব্বিশ বিলিয়ন ডলার অর্থ ধাপে ধাপে মুক্ত করা হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক সমঝোতার পরবর্তী ষাট দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: আল আরাবিয়া
