আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ জাতীয় ছুটির দিনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়েছে ভেনিজুয়েলা। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ফলে বহু ভবন ধসে পড়েছে, অসংখ্য স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প মাত্র ৩৯ সেকেন্ড ব্যবধানে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরের প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানীতেও তা অনুভূত হয়। সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানান, রাজধানীর লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও এই দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়েছিল এবং তখন প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কারাকাসের একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবন সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদকর্মী নিকোল কোলস্টার জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা। সাত তলার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে তার মনে হয়েছিল পুরো ভবনটি যেন ভেঙে পড়বে।
ভূমিকম্পের ঘটনাটি ঘটে স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা সিমন বলিভারের নেতৃত্বে ১৮২১ সালের ঐতিহাসিক কারাবোবো যুদ্ধ বিজয়ের স্মরণে ঘোষিত জাতীয় ছুটির দিনে। ফলে অধিকাংশ মানুষ তখন ঘরেই অবস্থান করছিলেন।
এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
