ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করল। ওই সময়ের পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
২০২৪ সালের আগস্টে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে। পরবর্তী মাস সেপ্টেম্বরেও তা আরও কমে ২৪ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। বৈদেশিক দায় পরিশোধে কৌশলগত পরিকল্পনা, বাজার থেকে ডলার ক্রয় এবং রিজার্ভ সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রবাসী আয় বাড়াতে দ্রুত রেমিট্যান্স নিষ্পত্তির নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হতে শুরু করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যায়। এরপর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ ৫৬ মাস পর রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করায় অর্থনীতিতে নতুন আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে বুধবার দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারে।
