ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াবে এবং আগ্রহ থেকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পথ সহজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা, শ্রদ্ধা ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়ন, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্য এবং এখন শিল্প অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে।
তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং আইন অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবেন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানান। এসব অঞ্চলে উন্নত অবকাঠামো, বন্দর সংযোগ, সরবরাহব্যবস্থা ও দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত বস্ত্রশিল্প এবং ওষুধশিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
