আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সেনাবাহিনীর দৃঢ় প্রতিরোধের কারণেই শত্রুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার লক্ষ্য ছিল দ্রুত ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা, কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
বুধবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের ধারণা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইরানে নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। কিন্তু ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিয়ে সেই পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ইরানি সেনারা এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা দেশটির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের সাহসিকতা শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল এবং ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।
পেজেশকিয়ানের মতে, সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে না পারায় এখন বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলো আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি এটিকে ইরানের প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই এই সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে ইরান আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: আল জাজিরা
