ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সরকারি দপ্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহারের ফলে গোপন সরকারি তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি সরকারি কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে মন্ত্রিসভার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য, নিরাপত্তাবিষয়ক নথি, পাসওয়ার্ড কিংবা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্য যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সরকারি তথ্যের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন সরকারি তথ্য কখনোই উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, সরকার অনুমোদিত এআই সেবা ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই ব্যবহার নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, আদালতের নথি, চলমান তদন্ত, ব্যক্তিগত তথ্য ও কৌশলগত বিষয় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে এআই থেকে পাওয়া তথ্য মানবীয় যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং এআই নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, সঠিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেই এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার সম্ভব।
