ডেস্ক রিপোর্ট ॥ গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের বর্তমান অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গণতন্ত্রকামী জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের সব গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘হাত ও কণ্ঠস্বর উঁচু করা—আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও মালিকানা প্রতিষ্ঠা’।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মূল দর্শন রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করলেই গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করতে হয়। সেই লক্ষ্যেই দেশের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে মানুষের বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণ প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের পর বীর ছাত্র-জনতা রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে—সব অবস্থান থেকেই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক স্থিতি এবং ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হবে। বাণীর শেষে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
